চলছে লালনের স্মরণোৎসব -২০১৯ উদ্যাপনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : মার্চ ১৯, ২০১৯, ৫:৫০ পূর্বাহ্ন / ৪৭৮
চলছে লালনের স্মরণোৎসব -২০১৯ উদ্যাপনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার

আগামী ২০,২১ ও ২২ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব – ২০১৯ ইং উদযাপন। এ স্মরণোৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে সামনে রেখে লালন মাজারকে সাজানো হয়েছে নতুন আঙ্গিকে। মাজারের ভেতরে বসেছে বাউল ফকিরদের আসর, বাইরে লালন মঞ্চে চলবে আলোচনা সভা। এ উৎসবকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় কালিনদীর পাড়ে বসেছে ৩ দিনের লালন মেলা। বাউল দর্শনের ভাবাবেগ আর উৎসুক দর্শকদের ভিড় সামাল দিতে নেয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। চলছে আলোক সজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, মঞ্চ তৈরিসহ আরো নানা আয়োজন। দেশি বিদেশি দর্শনার্থী, সাধক ও আয়োজকদের নিরাপত্তা রায় নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। আগামী বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী বাউল সম্রাট লালন শাহর স্মরণোৎসব। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও লালন একাডেমির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭:০০টায় তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড: তৌফিক -ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালনের আখড়াবাড়ি মানেই যেনো সুর সাধনার এক অন্য পৃথিবী। বছর ঘুরে আবারো লালনের স্মরণোৎসব উপলক্ষে সেজে উঠছে গোটা এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু বান্ধব ছাড়াও এ স্মরণোৎসব ছেঁউড়িয়ার লালন আঁখড়ায় এখন সাধু ভক্তদের আড্ডায় মুখরিত। সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও লালন একাডেমির আয়োজনে রাতভর চলবে লালন মঞ্চে লালন সংগীত পরিবেশন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসছেন এই গ্রামীণ মেলার স্টলে। দূর দূরান্ত থেকে ফকির সাধকদের আগমণ বার্তা শোনা যায় আখড়াবাড়ির আঙিনায় গেলেই। শেষ প্রস্তুতিটুকু সেরে নিচ্ছেন আখড়াবাড়িকে ঘিরে অনুষ্ঠিতব্য মেলায় অংশ নেবেন এমন দোকানিরা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) বলেন, ‘প্রতিবছরই সাঁইজির স্মরণোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত লালন মেলা অংশ নেয় সারাদেশ থেকে আসা হাজারো মানুষ। তাদের নিরাপত্তা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমীর সভাপতি মো: আসলাম হোসেন আমাদের-কে বলেন, ‘ফকির লালন সাইজীর স্মরণোৎসব-২০১৯ইং ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিগত দিনে আমরা যেভাবে এই মরমী সাধককে স্মরণ করে থাকি এবারেও সেভাবে স্মরণ করা হবে। আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি।’ ‘লালনের সকল অনুষ্ঠানে বিদেশীরা আসেন। বিদেশীদের যেন কোন নিরাপত্তার অভাব না হয় সেজন্য আমরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় সাজিয়েছি। তারা বিগত দিনে যেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো এবারেও যেন সেরকম স্বাাচ্ছন্দ্যবোধ করে সে ব্যাপারে আমরা তিন স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণ করেছি’-যোগ করেন জেলা প্রশাসক। উল্লেখ্য, আগামী ২০মার্চ লালনের স্মরণোৎসব। মাঝরাতে অধিবাস কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হবে ৩ দিনের লালন উৎসবের মূল আয়োজন।