আজ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০১৯, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন / ৭০০
আজ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী

আজ ১৭ ই মার্চ, বাঙালি জাতির জীবনের এক আনন্দের দিন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্ম বার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ফরিদপুর আর বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাচীন বাঙ্গালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বা জাতির পিতা বলা হয়ে থাকে। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পিতা-মাতার চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

আজীবন সংগ্রামী বঙ্গবন্ধুর যখন জন্ম হয় তখন ছিল বৃটিশ রাজত্বের শেষ অধ্যায়। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এনে দেওয়ার প্রয়াস ছিল অনেক বাঙালি নেতারই এবং বাঙালিকে ভালোবেসেছিলেন অনেক জননেতাই। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, সভাস বসু, এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখের অবদান বাঙালিদের কাছে চিরস্মরণীয়। বাঙালিরাও তাদের আর নাম ধরে ডাকে না। বলে থাকে ‘দেশবন্ধু’ নেতাজী, শেরে বাংলা নামে। তবে ‘বঙ্গবন্ধু’ সব খেতাবকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং তার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠ ভাষণ গুলোর মধ্যে স্থান লাভ করেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণের অন্য নাম “বজ্রকষ্ঠ’’। এ কষ্ঠ কাঁপিয়ে দিয়েছিল সমগ্র দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষকেও। তাই বিশ্বের বড় বড় জন নেতাকেও ছাড়িয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে ইতিহাস থেকে নির্বাসিত করতে পারবে না। মাহাত্মা গান্ধীকে বাদ দিয়ে যেমন ভারতের, মাও সেতুংকে বাদ দিয়ে চীনের, জর্জ ওয়াশিংটনকে বাদ দিয়ে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস লেখা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা যাবে না। ১৯৪৭ সালে পাকিস্থানের জন্ম হওয়ার পর এক মহুর্তের জন্যও তিনি থেমে থাকেননি পশ্চিম পাকিস্তানদের নির্যাতনের ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। সহযোদ্ধাদের নিয়ে ১৯৪৮ সালে গঠন করেন ছাত্রলীগ। তখন শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ নামক দলটির নামকরণ পশ্চিম পাকিস্তানের শাষক গোষ্ঠী প্রথম বারের মতো আঁতকে ওঠে। এরপর থেক কখনও ভাষার জন্য, কখনও স্বাধিকারের জন্য চলতে থাকে আন্দোলন। এসবের আড়ালে গড়ে ওঠে স্বাধীনতার আন্দোলন। ৪৭ এর দেশ বিভাগ ও স্বাধীনতা আন্দোলন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুথান পেরিয়ে ৭০ সনের নির্বাচন নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম তাই চিরভাস্বর হয়ে আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে আ’লীগের কাছে নির্বাচনের ভরাডুবি হওয়া সত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তরে তারা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারপর আর অপেক্ষা নয় ৭১’ এর মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পশ্চিম পাকিস্তানীদের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নজির বিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রকষ্ঠে ঘোষণা করেন ‘‘ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” । বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণে সাড়া দিয়ে সেদিন গোটা বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বীর বাঙালী ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর নিজের উপর সকল জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করে একটা যুদ্ধ বিধ্বংস্ব দেশকে পূনর্গঠনে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছিলেন। ১৯৭৫ সনে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি তথা একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে তিনি জাতীয় কর্মসুচী ঘোষণা করেন। এর কিছু দিনের মধ্যেই ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট কালরাতে ঘাতকদের তপ্ত বুলেটে স্বপরিবারে নিহত হন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। হয়তো এই ক্ষতি বাঙালী জাতিকে বয়ে বেড়াতে হবে আজন্মকাল।