স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে জাল টাকা ও অস্ত্র মামলা, পরিবারের অভিযোগ ষড়যন্ত্র


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ৪:০১ অপরাহ্ন / ১৫
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে জাল টাকা ও অস্ত্র  মামলা, পরিবারের অভিযোগ ষড়যন্ত্র

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদককে অস্ত্র ও জাল টাকার অভিযোগে আটক করে কুমারখালী থানায় সোপর্দ করেছে ঝিনাইদহ র‍্যাব ৬ এর আভিযানিক দল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‍্যাব সদস্যরা সাদা পোষাকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ধাওয়া করলে ৪ রাউন্ড গুলি বর্ষন করে র‍্যাব। সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের অভিযোগ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি।

আটককৃত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কয়া ইউনিয়নের ইব্রাহীমের ছেলে রাসেল হোসেন আরজু।

সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই শুভ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬.৩০ টার দিকে কয়া কলেজের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে দুজন ব্যক্তি গিয়ে তার ভাইকে কুষ্টিয়া থানার ষ্টাফ পরিচয় দিয়ে চড়াইকোল আলাউদ্দিন নগর নিয়ে আসেন এবং সেসময় আরজুর সাথে থাকা ব্যক্তির মোবাইল ফোন কেড়ে নেন তারা। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় এলাকার কিছু ছেলেরা তাদের সাথে আলাউদ্দিন নগর আসলে র‍্যাব সদস্যরা তাদেরকে মারধর করে আরজুকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে চলে যায়। সেসময় স্থানীয় ছেলেরা অপহরণকারী ভেবে মাইক্রোবাসের পিছনে মোটরসাইকেল নিয়ে তাড়া করলে এবং আরজুকে উদ্ধারের জন্য চিতকার করতে থাকলে কুষ্টিয়ার মশান এলাকা থেকে র‍্যাব সদস্যরা ফাঁকা গুলি বর্ষন করে। এবং তার ভাইকে নিয়ে চলে যান। তিনি জানান সেসময় ৯৯৯ এ কল করে তারা অনেক সহযোগিতা পেয়েছেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন ঝিনাইদহ র‍্যাব- ৬ এর সদস্যরা তার ভাইকে নিয়ে গেছেন। এবং অস্ত্র ও জালটাকা উদ্ধার দেখিয়ে কুমারখালী থানায় শুক্রবার মামলা হয়েছে। তিনি বলেন সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আরজুর চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে তার রয়েছে প্রচুর জনপ্রিয়তা । বর্তমান কয়া ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকার আরো যারা চেয়ারম্যান হবার স্বপ্ন দেখছেন তারাই চক্রান্ত করে তার ভাইকে বিপদে ফেলেছে। তিনি আরো বলেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কুমারখালী থানা পুলিশ অথবা কুষ্টিয়া র‍্যাব – ১২ আটক করবে।

বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আরজুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রাত ১০ টা থেকে ১০.৩০ পর্যন্ত ছাত্রলীগের ছেলেরা কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড অবরোধ করে রাখলে কুমারখালী থানার ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) রাকিব হাসান আরজুকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রাকিব হাসান জানান, শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ র‍্যাব-৬ এর সদস্যরা অস্ত্র ও জালটাকা সহ আরজুকে কুমারখালী থানায় সোপর্দ করেছেন। এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, জাল টাকা ও সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়েছে।