ভেড়ামারার পাটুয়াকান্দি এলাকার ৫ (পাঁচ) শতাধিক বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসন


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২০, ১০:৫৬ অপরাহ্ন / ৩৩০
ভেড়ামারার পাটুয়াকান্দি এলাকার ৫ (পাঁচ) শতাধিক বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পাটুয়াকান্দি এলাকার ৫ (পাঁচ) শতাধিক বিঘা জমির জলাবদ্ধতার নিরসন করতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারি খাল পূনঃখননের ব্যবস্থা করলেন উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম পাটুয়াকান্দি। এগ্রামের সড়কের পাশ দিয়ে একসময় প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা একটি সরকারি খাল ছিল। খালটি ষাটের দশকে তৎকালীন ধরমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার রেজাইল আলম মানিক এলাকার কৃষকদের সুবিধার্থে সেচ ব্যবস্থা চালু রাখা ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার পাশদিয়ে সরকারি জায়গায় রামু বাবুর গোডাইনের কাছে কাজীহাটা কালী গাঙ বিল থেকে পাটুয়াকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে হিসনা নদী পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার খাল তৈরি করেন। এটি ৩০থেকে ৪০ফুট প্রসস্ত ছিল। এ খাল দিয়ে পাটুয়াকান্দি মাঠের কৃষিকাজের সহযোগিতা এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্ত ১৫/২০ বছর আগে থেকে অবৈধ দখলদারদের কারণে খালটি বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে পাটুয়াকান্দি বাজারে গড়ে উঠে কাঁচা-পাকা ভবন। ফলে এলাকাবাসি পড়ে দুর্ভোগে। ভারি বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় ৫শতাধিক বিঘা জমির ফসল এবং কয়েকশত ঘরবাড়ি। আশপাশের ফসলি মাঠে ফসল হলেও বিলটিতে সারা বছরই পানি জমে থাকে। এতে কোনোপ্রকার ফসল আবাদ না হওয়ায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে স্থানীয় কৃষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক ও মাছ চাষী বলেন, এ মাঠের অপর প্রান্তে দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গায় অবস্থিত নাসির টোবাকোর তামাকের বর্জ্য পানিতে মিশে একদিকে ক্ষেতের ফসল বিনষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে অনেকগুলো পুকুরের পানিতে মিশে মাছ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি পানি নিষ্কাশনের জন্য এলাকাবাসি ধরমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালুর মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জান মিঠু কয়েকদিন আগে এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এরপরপর তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জান মিঠু ও ধরমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালুর উপস্থিতিতে থানা পুলিশের সহযোগিতায় পাটুয়াকান্দি বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেন এবং খালটি পূনঃখননের কার্যক্রম শুরু করেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার তেওতা এলাকার পাটুয়ান্দি মাঠে প্রায় দেড় শ একর ফসলি জমি রয়েছে। এ মাঠের ফসল দিয়ে সারা বছর চলে স্থানীয় কৃষকদের। এখানে এক সময়ে পাট, ভুট্ট, ধান, গম, সরিষাসহ সবধরনের ফসল আবাদ হতো। এখালটি চাষাবাদে কৃষকদের সহায়ক হতো। কিন্ত খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে ও চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। এখন খালটি নতুন করে খনন করা হলে সমস্যার সমাধান হবে। ধরমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ঘোষণা কোন অবৈধ দখলদার থাকতে পারবে না । তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এ অভিযান সফল হয়েছে। এজন্য তিনি এলাকাবাসী, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও উপজেলা চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান। ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালু জানান, এই খালটি খননের পরে এ এলাকার দীর্ঘদিনের বিরাট একটা সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ বিলে একসময়ে সবধরনের ফসল হতো তা আবার ফিরে আসবে। স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে পুনরায় নিজেদের পাশাপাশি এলাকার চাহিদাও পূরণ করবে। ইউএনও সোহেল মারুফ দৈনিক সাগরখালী পত্রিকার সাংবাদিকে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকাজের ওপর বেশ জোর দিয়েছেন। কৃষিকাজে কৃষকের একখণ্ড জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে সে বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে আমি দ্রুত স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় সমাধান করার চেষ্টা করেছি। আশা করি এবার থেকেই ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবে। কৃষকরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও আমি বিষয়টি আমার চাকরির দায়বদ্ধতা মনে করি। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জান মিঠু বলেন, আজকে যেখানে উদ্ধার অভিযান করা হলো সেখানে ৩০/৪০ ফুট প্রশস্ত ক্যানাল ছিল। সেটি বন্ধ থাকায় এলাকায় প্রায় ৫শত বাড়ি এবং কয়েকশত একর জমি ডুবে আছে। খালটি করে দিতে পারলে এলাকার মানুষ দীর্ঘ দিন আরামে বাস করতে পারবে। পানিতে জলাবদ্ধতা হবে না এলাকার শত শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হবে না, বাড়ির ভিতর পানি ঢুকবে না। তাই আমরা ক্যানালটি পূনঃউদ্ধারের কাজ হাতে নিয়েছি।