কলেজ ছাত্রীকে পিটিয়ে এখনো বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বখাটে শাহিন ও তার পরিবার


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২০, ৩:২৮ অপরাহ্ন / ১৪৫
কলেজ ছাত্রীকে পিটিয়ে এখনো বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বখাটে শাহিন ও তার পরিবার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চৌরঙ্গী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা (১৮) কে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে বখাটে শাহিন (২৪), তার বাবা ইসমাইল ও মা শাহিদা খাতুন। ছাত্রীটি বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবার জানায়, শাহিন মাঝে মাঝেই পূর্ণিমার পথ রোধ করে কু-প্রস্তাব দিতো। গত ১/০৬/২০২০ ইং তারিখ বিকাল ৩ টার দিকে পূর্ণিমা গোসল করে শাহিনের বাড়ির পথ দিয়ে আসার সময় সে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পূর্ণিমার শরীরের একাধিক স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় পূর্ণিমা আত্নরক্ষার জন্য বাধা দিতে গেলে শাহিনের বাবা ইসমাইল ও তার মা শাহিদা পূর্ণিমাকে মারপিট করে। ঘটনার পরপরই পূর্ণিমা ও তার পরিবার চৌরঙ্গী তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তদন্ত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এরপর পূর্ণিমার শরীরের আঘাতের যন্ত্রনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২/০৬/২০২০ ইং তারিখ কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই শাহিনের দলবল তাকে হাসপাতাল ত্যাগ করার হুমকি প্রদান করছে।

শুক্রবার রাতে হাসপাতালে গেলে পূর্ণিমা তার অসহায়ত্ব তুলে ধরে জানান আমাকে এভাবে অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করার ৪ দিন অতিবাহিত গেলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। শাহিন প্রতিনিয়ত হাসপাতালে এসে হুমকি দিচ্ছে রিলিজ নিয়ে বাড়ি চলে যেতে নাহলে প্রাণে ফেলবে। তিনি আরো বলেন, আমার শরীর খুব ব্যাথা।সারারাত যন্ত্রনায় ঘুমাতে পারিনা। হয় আমার নির্যাতনের বিচার করুন,না হয় আত্মহত্যা করার সুযোগ দিন।

এবিষয়ে চৌরঙ্গী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রাকিব মুঠোফোনে জানান,লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এলোমেলো যোগাযোগ হওয়ায় বসাবসি হয়নি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মজিবুর রহমান জানান,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।