নড়াইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক চেয়ারম্যানের মামলা


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : মার্চ ২৫, ২০২০, ১২:৫০ অপরাহ্ন / ৩১৩
নড়াইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক চেয়ারম্যানের মামলা

নড়াইল সদর উপজেলার মূলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান বিপুল বিশ্বাস। রোববার বিপুল বিশ্বাস সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে ওসি ইলিয়াছ হোসেন নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে নড়াইলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়,গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন কর্মসূচীর আওতায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনশীল বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচীর আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে পিআইসির মাধ্যমে গৃহহীন হতদরিদ্রদের  মধ্যে সরকার নিজ খরচে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলায় ১৩ ইউনিয়নে ৩৮ টি ঘর নির্মাণ করা হয়। যার খরচ ১কোটি ১৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৬৮০ টাকা। উক্ত প্রকল্পের একটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে মূলিয়া ইউনিয়নের শালিয়ারাভিটা গ্রামে। শালিয়ারা ভিটা গ্রামের হতদরিদ্র বিধবা মিরা রানীর নামে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ মুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন অধিকারী ৫০হাজার টাকা তার নিকট দাবী করেন। হতদরিদ্র মিরা তার ভাই ও এলাকার বিভিন্ন লোকের নিকট থেকে দাদনের (সুদ) মাধ্যমে ৪৮হাজার টাকা  জোগাড় করে চেয়ারম্যানের হাত পা ধরে অনেক অনুনয় বিনয় করে ওই টাকা প্রদান করে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি প্রকল্পের গৃহ নির্মাণে ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে তার শোভা বর্ধন করা যায় কি-না ?
সুবিধাভোগী মিরা রানীর জানান, ‘ঘরটা প্রশস্ত ও উন্নত করার জন্য ওই টাকা দিয়েছি।’
এ প্রসঙ্গে মূলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন,‘মিরার অনুরোধে টাকা নিয়ে তার দাবী মোতাবেক ঘর প্রশস্ত ও সিডিউলের বাইরে অনেক কাজ করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম যুগান্তরকে বলেন,‘ঘরটি প্রশস্ত ও উন্নত করার জন্য টাকা দেওয়ার কথা মিরা স্বীকার করেছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য সদর উপজেলার পিআইওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
একই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন,‘মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ খেকে গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’