খোকসায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণে ৭মাসের অন্ত:সত্ত্বা: সেফা ক্লিনিকে সন্তান জন্মের পরেই হত্যার অভিযোগ


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২০, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন / ৩২৮
খোকসায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণে ৭মাসের অন্ত:সত্ত্বা: সেফা ক্লিনিকে সন্তান জন্মের পরেই হত্যার অভিযোগ

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেনীর এক ছাত্রী ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। গত ৪মার্চ বাড়ি পাশের রাস্তা থেকে ঐ ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে খোকসা উপজেলার সেফা ক্লিনিক ভরসা আপার বাড়ি জন্মের পর ৭মাসের অপূর্ণ বাচ্চাকে হত্যার ঘটনায় ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী।
ঐ কিশোরী ছাত্রীর বাবা জানান, বাড়িতে শুধু আমার স্ত্রী ও সন্তানরা থাকে। ৭মাস পূর্বে আমার পাশ্ববর্তী মতলেব জোয়ার্দ্দার এর ছেলে মুস্তাক জোয়ার্দ্দার আমার খোঁজে আমার বাড়িতে আসে। ঐ দিন বাড়িতে আমার স্ত্রী ছিলোনা। আমার মেয়েকে একা পেয়ে মুস্তাক জোয়ার্দ্দার জোর করে গলায় ছুরি ধরে ঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষন করে। এই ঘটনার পর আমার মেয়ে ভয়ে কাউকে এই বিষয়ে কিছুই জানায়নি। গত ১৫দিন পূর্বে আমার বড় মেয়ে ছোট মেয়ের চেহারার পরিবর্তণ দেখে এবং পেট বড় দেখে সন্দেহ করে। একপর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেসময় আমার ছোট মেয়ে জানায় মুস্তাক জোয়ার্দ্দার তাকে কয়েক মাস পূর্বে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এই কথা কাউকে বললে বাবা মাকে হত্যার হুমকী দেয় সে। যেকারনে আমি কাউকে কিছু বলার সাহস পাইনি। গত ৪মার্চ মুস্তাক জোয়ার্দ্দার, তার ভাই মানিক জোয়ার্দ্দার, রশিদ জোয়ার্দ্দার, শুকুর জোয়ার্দ্দার, ধলাই জোয়ার্দ্দার ও তার বোন মনোয়ারা একটি গাড়ি নিয়ে এসে আমার মেয়েকে বাড়ির পাশ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারা আমার মেয়েকে খোকসা সেফা ক্লিনিক ভরসা আপার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মনোয়ারাকে মা সাজিয়ে মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অচেতন করে আমার মেয়ের একটি ৭মাসের অপূর্ণ মেয়ে বাচ্চা জন্ম নেয়। জন্ম নেওয়ার ২ ঘন্টা পর তারা ঐ অপূর্ণ বাচ্চাকে হত্যা করে পাষন্ডরা। আমরা আমার মেয়েকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করি। পরবর্তীতে আমার বড় মেয়ের কাছে মুন্নু জোয়ার্দ্দারগণ ফোন করে জানায় একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আসুন এটা মিমাংসা করে ফেলি। এবং বিভিন্ন অংকের টাকার প্রলোভন দেয়। আমি আমার মেয়েকে উদ্ধারের স্বার্থে তাদের সব শর্তে রাজি হয়। এর এক পর্যায়ে তারা শনিবার আমার বড় মেয়ের শ্বশুর বাড়ির কাছে আমার মেয়েকে রেখে পালিয়ে যায়। আমি এই বিষয়ে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে আটক করেনি পুলিশ। বর্তমানে আমার মেয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই বিষয়ে ঐ ছাত্রী জানায়, ৭মাস পূর্বে আমার বাড়ীতে মুস্তাক এসে আমার গলায় ছুরি ধরে আমাকে জোরপূর্কক ধর্ষণ করে ও বলে আমি যদি এই কথা কাউকে বলি তাহলে তারা আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে। গত ৪ তারিখে তারা আমাকে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভরসা ক্লিনিকে আমাকে অচেতন করে অপারেশন করে আমার অপূর্ণ ৭ মাসের মেয়ে বাচ্চাকে হত্যা করে।
এই বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার এই ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে ফোনটি কেটে দেন।