কুষ্টিয়ায় ফেন্সিডিলসহ আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কামিনীর মা আটক


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৪, ২০১৯, ৯:১২ পূর্বাহ্ন / ৩৬১
কুষ্টিয়ায় ফেন্সিডিলসহ আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী কামিনীর মা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মাদক সম্রাট খ্যাত কামিনীর মা মাজেদা খাতুন(৫৮)কে ৩ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করেছে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কুষ্টিয়া।

 

গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাঁস ফুলতলার নিজ বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার ইন্সপেক্টর নুরুল আলম। আটক মাজেদা খাতুন জিয়ারত আলী শেখের স্ত্রী। মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার ইন্সপেক্টর নুরুল আলম জানান, কামিনী জেলার একজন চিহ্নিত মাকদ ব্যবসায়ী। আর মাজেদা খাতুন মাদক সম্রাজ্ঞী কামীনির মা। কামিনী কিছুদিন আগে বিপুল পরিমান মাদকসহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।

নুরুল আলম আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লোকবল সংকটের কারনে আমাদের অনেকটা বেগ পেতে হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি তাদের আটক ও গ্রেফতার করে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে।

মাদক উদ্ধার ও আটকের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-৫, তারিখ: ০৩/০১/২০১৯ ইং। কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস ফুলতলা এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী কামিনী নামে থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সে পুলিশের নিকট প্রায় ২০বার আটক হয়েছে। কামিনীর ৪২ বছরের জীবনে প্রায় ২৫ বছর তিনি এ মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত। তার বাবাও একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানান এলাকাবাসী।

সুতরাং পারিবারিকভাবেই সে এই মাদক ব্যবসার হাতে খড়ি পেয়েছে। কামিনী সংসার পেতেছে ঐ এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারে মৃত নিয়ামত আলীর ছেলে আজাদুর রহমানের সঙ্গে। বিয়ের পর তাকেও এনেছে এ লাইনে। ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এই এলাকায় মাদকবিরোধী সভা সমাবেশ করেছে। কিন্তু কোন কিছুতেই কামিনীর ব্যবসা থামানো সম্ভব হয় নি। সর্বশেষ সকল জল্পনা কল্পনা শেষে কিছুদিন আগে বিপুল পরিমান মাদকসহ আটক হয়ে সে এখন জেল হাজতে।

বর্তমান তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় উল্লেখযোগ্য মাদক মামলার মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলা নং-৫, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা নং-১৭, একই বছরের জুলাই মাসে মামলা নং-৩০, ঐ সালেই আগস্ট মাসে মামলা নং-৫, ২০১১ সালের জুলাই মাসে মামলা নং-১৩, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মামলা নং-৮, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে মামলা নং-৫ ও এপ্রিল মাসে মামলা নং-১০। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।