নড়াইলে অবৈধ ভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০১৯, ৬:২৭ অপরাহ্ন / ৩৩৪
নড়াইলে অবৈধ ভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে

নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় কালনা ঘাট এলাকায় ফসলি জমি ও জনবসতির মাঝে গড়ে ওঠা অবৈধ মা-বাবা বিক্সসে নির্বিচারে তৈরি করছে ইট। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ইট তৈরির জন্য স্কেভেটার দিয়ে কেটেছে ফসলি কৃষি জমির টপ সয়েল (ওপরের স্থরের র্উবর মাটি) বাদ পড়েনি সরকারি জমির নদী ভাংঙ্গন ও সড়কের পাশের মাটিও। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির উর্বর শক্তি অন্যদিকে মাটি কাটার ফলে উৎপাদনশীল জমি গুলো কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন। মাটিবাহী ট্রাকের বেপরোয়া যাতায়তের ফলে বেশ ক্ষতিগগ্রস্থ কালনা গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ। এই ভাটায় ১৫জন শিশু ও নারী শ্রমিক ইট তৈরীর কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কালনা ঘাট এলাকায় ড্রামসিট চিমনি দিয়ে মা-বাবা বিক্সস নামে ইটভাটাটি গড়ে তোলা হয়েছে। ভাটায় বিপুল পরিমাণ মাটি ও কাঠের লাকড়ি মজুদ রয়েছে। ভাটা হতে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আকাশ মেঘাচ্ছন্নের মতো আবরণ সৃষ্টি হয়। ভাটায় নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে এলাকাবাসীসহ ঢাকায় আসা-যাওয়া যাত্রী সাধারণের মারাত্মককভাবে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। ছোট ছোট গাছ ভাটায় লাকড়ি হিসেবে ব্যবহারের ফলে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে তারা।
ইট প্রস্তুতও ভাটাস্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কোন কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না’। এ আইন অমান্য করলে ‘অনধিক ৩ বৎসরের কারাদন্ড বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন’ মর্মে এ আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে। একই আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ আছে ‘জেলা প্রশাসকের নিকট হতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করতে পারবেন না’। ৫ নং ধারায় বলা আছে, ‘কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হতে মাটি কেটে সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না’। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া, জমি, নদী ভাঙ্গন ও রাস্তার পাশের মাটি কাটছে, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করছে। সবমিলিয়ে সকল আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ ইট ভাটার মালিক না কে হ্যা বানিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের ভাটা।
ভাটা মালিক বদর খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে ‘সাংবাদিক তার ভাটায় যাওয়ায় তিনি অসন্তোস প্রকাশসহ নিউজ না ছাপানোর অনুরোধ করেন।
লোহাগড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ শেখ জানান, প্রশাসন সব জানে মাঝে মাঝে সাংবাদিকরা নিউজ করলে এসে কিছু জরিমানা করে যায়। তবে উচ্ছেদ, লাকড়ি পোড়ানো বা জমির মাটি কাটার বিষয়ে কোন বিধি নিষেধ নেই। তাছাড়া সিমান্তবর্তী এলাকায় ভাটাটি হওয়ায় দুই পাশের প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ভাটা পরিচালনা করে আসছেন।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, ‘ওই ভাটাটি আমাদের মধ্যে না। ভাটাতে কাঠ পোড়ানোর কোন নিয়ম নেই। এলাকার অন্য ভাটার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বসবো।