প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব কর্ণফুলী কাগজ কলকে বাচাঁনো — কমিশনার মান্নান


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২১, ২০১৯, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ন / ২২৮
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব কর্ণফুলী কাগজ কলকে বাচাঁনো — কমিশনার মান্নান
রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে চন্দ্রঘোনাস্থ ঐতিহ্যবাহী এশিয়ায় বৃহত্তম কাগজ কল কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) ‘র কাগজ উৎপাদনের জন্য এক সময় প্রচুর পরিমাণে মুড়ি ও বাড়িয়াল বাশঁ সহ নানা প্রকার গাছের প্রয়োজন হতো। যা সংগ্রহ করা হতো রাঙ্গামাটি বরকল, মাইনী,হরিণা,মাচালং,কাচালং সহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে। ফলে পাবর্ত্য অঞ্চলে অর্থনীতির বিপ্লবে সিংহভাগের  ভূমিকা রাখতো প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় যে খাতা ব্যবহার হতো তার চাহিদার বেশির ভাগ মেটাতো প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ২৩ টিরও বেশি নানান প্রকৃতির কাগজ উৎপন্ন করে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে যা এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কলের খ্যাতি অর্জন করে।
কিন্তু ২০০৮ সালে পর ক্রমাগত লোকসানের মুখে বাশঁ- গাছ সংগ্রহ করা কমিয়ে দিলে প্রত্যক্ষ- পরোক্ষভাবে তার প্রভাব পড়ে সমগ্র পার্বত্যাঞ্চলে জুড়েই। বেকার হতে বসে শ’ খানের বাশঁ ব্যবসায়ী। শুরু হয় এ অঞ্চলে ব্যবসায় খাতে মন্দভাব। কিন্তু বর্তমানে লোকসানের হার কমে আসলেও অর্থ সংকটের কারণে  সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কোন ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানটি। এমনটি বলছেন কেপিএমের সিবিএ সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক।
তবে বছরের শুরুতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া হয় তা যদি কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পেপার মিলসকে তৈরী করতে সক্ষম হবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে জানানো হলে তিনি নিশ্চয় পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতিতে প্রভাব সৃষ্টিকারী এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাচাঁতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন,চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। এর মধ্যে লাভ কম করে অন্তত পক্ষে কেপিএমের উৎপাদিত কাগজের পরিমানে বৃদ্ধির কথা বলেন তিনি।
আগামীকাল বিকালে পারিবারিক ভ্রমনে কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পেপার মিলস লি. এসে মিলসটির বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অতিথি ভবনে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা,জেলা -উপজেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিবিএ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকদের সাথে বৈঠককালে এসব কথা বলেন তিনি।
কর্নফুলী পেপার মিলস লি.এর ব্যবপস্থাপনা পরিচালক ডা: এম.এম.এ কাদেরের পরিচালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ.কে.এম. মামুনুর রশিদ, কাপ্তাই উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ মফিজুল হক, কাপ্তাই উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আশ্রফ আহমেদ রাসেল, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান, চন্দ্র ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার ইসলাম চৌধুরী বেবি,কেপিএম সিবিএ সভাপতি আব্দুল রাজ্জাক সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু সহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, বেতন ভাতা বকেয়া থাকায় মিলসটির ৩শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবন -যাপন করছে বলে জানা যায়। কর্ণফুলী পেপার মিলের আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদ অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আর্কষন করতে কে,পি,এম’র সাবেক শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তা ও তাদের সন্তানদে আয়োজনে আসুন কেপিএম বাঁচাই সংগঠননের ব্যানারে গতমাসে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে দুইশতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বেলুন বেঁধে আকাশে উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কাছে খোলা চিঠি ও দেওয়ার হয়েছে।