ফুলবাড়ীতে পিঁয়াজের বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান


দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন / ২৪৫
ফুলবাড়ীতে পিঁয়াজের বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

দেশজুড়ে পাইকারী বাজারে অভিযান,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস, বড় চালান আসার খবর কোনো কিছুই থামাতে পারছে না পেঁয়াজের ঝাঁজ,মানুষের মুখে মুখে এখন পেঁয়াজের বিকল্প খোঁজার দীর্ঘশ্বাস। বাঙালি রান্নার উপাদেয় এই উপকরণটির চোটপাটে ক্রেতারা দিশেহারা।

পারদ গরম দিলে যেমন এর তাপ বাড়ে ঠিক সেরকমভাবেই  পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২৫০টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
 দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গতকাল শুক্রবার প্রতিকেজি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা, একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতের কাচাঁ শাক-সবজির দামও।
এদিকে হঠাৎ প্রতিকেজি পিঁয়াজে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায়,পিঁয়াজের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী। এসময় পিঁয়াজের ক্রয়মূল্য প্রদর্শন করতে না পারায়, ভোক্তা অধিকার আইনে মিহির চন্দ্র নামে এক পিঁয়াজ ব্যবসায়ীর ৫হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন পিঁয়াজের ব্যবসায়ীরা আমদানী মূল্য প্রদর্শন না করে ইচ্ছেমত মূল্য বৃদ্ধি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ফুলবাড়ী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি পিঁয়াজের মূল্য ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা। একই সাথে পাল্লাদিয়ে বেড়েছে কাচাঁ শাক-সবজির দামও, গত দুই দিন আগে যে ফুলকপি প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, সেই ফুলকপি প্রতিকেজির মূল্য ৬০ টাকা, একই ভাবে বেড়েছে বাঁধাকপি, পটল, আলু, সীম,পাতা পিয়াজ, করলা, গাজর, বেগুন, রসুন, টমাটো ও আদাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শীতকালীন কাচাঁ-শাক-সবজির দাম। অথচ গত দুই দিন আগেও এসব শীতকালীন শাক-সবজির দাম অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল।
সবজি ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন বর্তমানে কাচাঁ সবজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়,পাইকারী বাজারে সবজির আমদানী কমে গেছে, যার ফলে সবজির দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার সবজির পাইকারী বিক্রেতা হামিদুল ইসলাম বলেন চারিদিকে আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায়, সবজির চাহিদা বেড়েছে, বর্তমানে সবজি দেশের দক্ষিনাঞ্চলে রপ্তানী হচ্ছে এই কারনে বাজারে সবজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পিঁয়াজ ব্যবসায়ী নিঞ্জন কুমার বলেন পিঁয়াজের চাহিদার তুলুনায় আমদানী অনেক কমে গেছে, আবার আমদানী কৃত পিঁয়াজ সমুদ্র বন্দর থেকে নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে, এতে পিঁয়াজের মুল্য ও ঘাটতি দুটোয় বেড়ে যাচ্ছে, যে কারণে পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।এই পিঁয়াজ ব্যবসায়ী আরো বলেন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানী করা হলে পরিবহন খরচ কমে যায়,এতে ঘাটতিও কমে যায়।  কিন্তু মিয়ানমান, মিশরসহ অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে পিঁয়াজ আমদানী করায় পরিবহন খরচ ও ঘাটতি বেড়ে যাবার কারণে মূল্য বৃদ্ধি পায়।