০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৭ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাপ ছেলের সঙ্গেই যদি করতে পারি বাইরে করতে দোষ কী

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৯
  • 594

আমার বয়স যখন ১২ বছর তখন আমার বাবা এক বাসায় কাজ করতে রেখে যায়। ঐ বাসায় যখন সাহেব-ম্যাডাম বাসার বাহিরে চলে যেত তখনই ছেলে জোর করে আমার সঙ্গে যৌ*নকর্ম করত। এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন। আবার যখন সাহেব একা বাসায় থাকত তখন তিনিও আমাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে তার রুমে যৌ*নকর্ম করতে বাধ্য করত। আমি এসব বিষয়ে ম্যাডামকে কিছুই বলতে সাহস পেতাম না, কারণ উনিও আমাকে অনেক নির্যাতন করত। কথাগুলো একজন ভাসমান যৌ*নকর্মী রিমি আখতারের।রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করেন তিনি। বাপ-ছেলের যৌ*ন লালসার শিকার হয়ে অবশেষে পেশা হেসেবেই বেছে নেন এই কর্মকে। বলেন, বাপ-ছেলে দুজনের সাথে এক কাজ করতে আমার খারাপ লাগতো। পরে ভেবে দেখলাম বাপ-ছেলের সঙ্গেই যদি এই কাজ করতে পারি, তাহলে পেশা হিসেবে নিতে আর দোষ কী? তাই এ পথে নেমে গেলাম। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের খারাপ বলে জানে। আসলে আমাদেরকে এ পথে কারা আনতে বাধ্য করে? কাদের কারণে আমরা এ পথ বেঁছে নিয়েছি এটি কেউ জানতে চায় না। আমরা অসহায়, চাইলেও এ পথ থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না। রিমির সাথে থাকা আরেক যৌ*ন কর্মী বলেন, আমার স্বামী নির্যাতন করত, খাবার দিতনা, বাসায় বন্দী করে রাখত। একবার ইট দিয়ে মেরে আমার দুই পা থেঁতলে দিয়েছিল। তাই আমি দুটি সন্তান নিয়ে চলে আসি। আমার সন্তানদের মানুষ করতে এ পথ বেঁছে নিয়েছি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার শিশু ও নারী স্বামীর হাতে অথবা বাসা বাড়িতে কাজ করতে এসে যৌ*ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে এদের অধিকাংশই যৌ*নকর্মী অথবা মৃত্যুর পথ বেঁছে নিচ্ছেন।

Tag :

বালিয়াকান্দি মোটরসাইকেল সহ ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার ৩

You cannot copy content of this page

বাপ ছেলের সঙ্গেই যদি করতে পারি বাইরে করতে দোষ কী

প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৯

আমার বয়স যখন ১২ বছর তখন আমার বাবা এক বাসায় কাজ করতে রেখে যায়। ঐ বাসায় যখন সাহেব-ম্যাডাম বাসার বাহিরে চলে যেত তখনই ছেলে জোর করে আমার সঙ্গে যৌ*নকর্ম করত। এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন। আবার যখন সাহেব একা বাসায় থাকত তখন তিনিও আমাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে তার রুমে যৌ*নকর্ম করতে বাধ্য করত। আমি এসব বিষয়ে ম্যাডামকে কিছুই বলতে সাহস পেতাম না, কারণ উনিও আমাকে অনেক নির্যাতন করত। কথাগুলো একজন ভাসমান যৌ*নকর্মী রিমি আখতারের।রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় বসবাস করেন তিনি। বাপ-ছেলের যৌ*ন লালসার শিকার হয়ে অবশেষে পেশা হেসেবেই বেছে নেন এই কর্মকে। বলেন, বাপ-ছেলে দুজনের সাথে এক কাজ করতে আমার খারাপ লাগতো। পরে ভেবে দেখলাম বাপ-ছেলের সঙ্গেই যদি এই কাজ করতে পারি, তাহলে পেশা হিসেবে নিতে আর দোষ কী? তাই এ পথে নেমে গেলাম। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ আমাদের খারাপ বলে জানে। আসলে আমাদেরকে এ পথে কারা আনতে বাধ্য করে? কাদের কারণে আমরা এ পথ বেঁছে নিয়েছি এটি কেউ জানতে চায় না। আমরা অসহায়, চাইলেও এ পথ থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না। রিমির সাথে থাকা আরেক যৌ*ন কর্মী বলেন, আমার স্বামী নির্যাতন করত, খাবার দিতনা, বাসায় বন্দী করে রাখত। একবার ইট দিয়ে মেরে আমার দুই পা থেঁতলে দিয়েছিল। তাই আমি দুটি সন্তান নিয়ে চলে আসি। আমার সন্তানদের মানুষ করতে এ পথ বেঁছে নিয়েছি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার শিশু ও নারী স্বামীর হাতে অথবা বাসা বাড়িতে কাজ করতে এসে যৌ*ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে এদের অধিকাংশই যৌ*নকর্মী অথবা মৃত্যুর পথ বেঁছে নিচ্ছেন।